ফটোসাংবাদিকতা কি? ফটো এডিটিং এর মৌলিক নীতি কি কি(What is photojournalism? What are the basic principles of photo editing?)
উ:- ফটোসাংবাদিকতা হলো একটি বিশেষ ধরনের সাংবাদিকতা যেখানে ফটোগ্রাফির মাধ্যমে সংবাদ পরিবেশন করা হয়। এটি সংবাদ সংগ্রহ এবং পরিবেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, যেখানে ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য দৃশ্যের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। ফটোসাংবাদিকরা মূলত ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বাস্তবতার ছবি তুলে সমাজের সামনে তুলে ধরেন। এই পেশায় কাজ করা ফটোগ্রাফাররা একদিকে যেমন ঘটনার সঠিক চিত্র ধারণ করেন, তেমনি ছবি মাধ্যমে পাঠকদের বা দর্শকদের ঘটনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেন। ফটোসাংবাদিকতার উদ্দেশ্য হলো সঠিক, প্রামাণিক এবং অপরিবর্তিত চিত্র উপস্থাপন করা, যাতে এটি জনসাধারণের মধ্যে ঘটনার সঠিক বোঝাপড়া তৈরি করতে সহায়ক হয়।
ফটো এডিটিং এর মৌলিক নীতি:- ফটো এডিটিং হলো একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ছবির গুণগত মান উন্নত করা হয় বা ছবির মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট পরিবর্তন আনা হয়। এটি একটি সৃজনশীল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রয়োজনীয় কাজ, যা ছবির কম্পোজিশন, রঙ, কনট্রাস্ট, ব্রাইটনেস এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য সম্পাদনা করে। ফটো এডিটিং এর কিছু মৌলিক নীতি হলো:
1. এক্সপোজার এবং ব্রাইটনেস:- ছবির উজ্জ্বলতা বা অন্ধকার স্থির করা। এক্সপোজার ঠিকভাবে ম্যানেজ করা না হলে ছবি অতিরিক্ত উজ্জ্বল বা অন্ধকার হতে পারে, যা ছবির বিস্তারিত দেখতে অসুবিধা সৃষ্টি করে।
2. কনট্রাস্ট:- ছবির উজ্জ্বল এবং অন্ধকার অংশের মধ্যে পার্থক্য বৃদ্ধি করা। কনট্রাস্ট বাড়ালে ছবির গভীরতা এবং আকর্ষণীয়তা বাড়ে।
3. রঙের সামঞ্জস্য:- ছবির রঙ ঠিকভাবে সামঞ্জস্য করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত বা কম রঙ ব্যবহার করা ছবির প্রকৃত আভা নষ্ট করতে পারে। ফটো এডিটিংয়ে সাধারণত রঙের ব্যালান্স সঠিকভাবে ম্যানেজ করা হয়।
4. শার্পনেস:- ছবির সঠিক দৃশ্যমানতা এবং নির্ভুলতা বজায় রাখার জন্য শার্পনেস (তীক্ষ্ণতা) নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অতিরিক্ত শার্পনেস ছবির অপ্রাকৃত বা কৃত্রিম অনুভূতি দিতে পারে।
5. ক্রপিং (Cropping):- ছবি থেকে অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দিয়ে ছবির ফোকাস বৃদ্ধির জন্য ক্রপিং করা হয়। এটি ছবির কাঠামো উন্নত করে এবং মূল বিষয়বস্তুকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।
6. রিটাচিং:- ছবির কোনো ত্রুটি বা ত্রুটির সংশোধন করা যেমন দাগ, লাল চোখ ইত্যাদি। এটি প্রায়ই মডেল বা ব্যক্তি ছবি এডিটিংয়ে ব্যবহৃত হয়।
7. ব্লার এবং ডিস্ট্র্যাকশন রিমুভাল:- কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যাকগ্রাউন্ড বা অবজেক্ট ফোকাস থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ব্লার ব্যবহার করা হয়, যাতে ছবির মূল বিষয়ের দিকে দর্শক মনোযোগ আকর্ষিত হয়।
8. লেয়ার ব্যবহারের কৌশল:- ফটো এডিটিংয়ে লেয়ার ব্যবহার করে বিভিন্ন অংশের উপর কাজ করা হয়। এটি ছবির মধ্যে বিভিন্ন স্তর তৈরি করে এবং বিভিন্ন অংশের পরিবর্তন সহজে করা সম্ভব হয়।
9.ডিস্টোর্টিং (Distorting):- কিছু ছবির আকার বা আকৃতি পরিবর্তন করা হয়ে থাকে ছবির সৃজনশীলতা বাড়ানোর জন্য, তবে এর ব্যবহার সাবধানতার সাথে করা উচিত যাতে ছবির প্রকৃততা নষ্ট না হয়।
10. নিউট্রাল টোন এবং মোডিফিকেশন:- ছবির কোনো রঙ বা টোনে পরিবর্তন আনা, যেমন গা dark ় বা উজ্জ্বল শেড ব্যবহার করে ছবির মুড বা আবেগ প্রকাশ করা।
ফটো এডিটিংয়ের উদ্দেশ্য হল ছবির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও তথ্যগত মান বজায় রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় বা অপ্রত্যাশিত ত্রুটিগুলি দূর করা। তবে, অতিরিক্ত এডিটিং ছবির স্বাভাবিকতা নষ্ট করতে পারে, তাই এটি সঠিকভাবে করা উচিত।