সমপ্রেষরেখা বিস্তারের প্রবণতা (Trend of Isober)
প্রদত্ত আবহাওয়া মানচিত্রে 996 মিলিবার থেকে 1012 মিলিবার পর্যন্ত 2 মিলিবার ব্যবধানে মোট 9 টি সমপ্রেষরেখা লক্ষ করা যায়। এর মধ্যে (1) 996, 998 এবং 1000 মিলিবারের সমপ্রেষরেখাগুলি মধ্যপ্রদেশের উত্তর প্রান্তে বৃত্তাকারে বিন্যস্ত হয়ে গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি করেছে।(ii) 1002 মিলিবার সমপ্রেষরেখাটি বৃত্তাকারে বিন্যস্ত হলেও পাঞ্জাব-হরিয়ানাতে বৃত্তাকার বন্ধনী মুস্ত হয়ে একটি বাহু পশ্চিমমুখী ও অন্যটি উত্তর ও উত্তর-পূর্বে প্রসারিত হয়েছে। (ⅲ) 1004 থেকে 1008 মিলিবারের সমপ্রেষরেখাগুলি প্রথমে পূর্বমুখী হয়ে ভারতে প্রবেশ করলেও পরে সামান্য দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বিস্তৃত হয়। তবে মধ্যভারত থেকে তা আবার পূর্বমুখে সম্প্রসারিত হয়েছে। এক্ষেত্রে এই তিনটি রেখাই প্রায় পরস্পরের সমান্তরালে বিন্যস্ত। (iv) 1010 মিলিবারের রেখাটি পশ্চিম দিক থেকে আরবসাগর সংলগ্ন কোঙ্কন উপকূলে প্রবেশ করা মাত্রই দক্ষিন পর্বে বাঁক নিয়ে কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে। তারপর উপকূল ছেড়ে জলভাগে প্রবেশ করা মাত্রই উত্তর-পূর্বে প্রসার লাভ করেছে। (V) 1012 মিলিবারের রেখাটি আরবসাগরে দক্ষিণ-পূর্বমুখী হয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করে উত্তর-পূর্বে প্রসার লাভ করেছে।
সামগ্রিকভাবে বিচার করলে বলা যায়, মধ্যভারতের কিছুটা উত্তরাংশে সমপ্রেষরেখাগুলি বৃত্তাকারে বিন্যস্ত। পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতে রেখাগুলি দক্ষিণ-পূর্বমুখী। মধ্য ও পূর্ব ভারতে রেখাগুলি পশ্চিম থেকে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে কিছুটা উত্তর-পূর্ব দিকে বিস্তার লাভ করেছে।
• বিন্যাসের কারণ সমপ্রেষরেখা বিন্যাস প্রকৃতি প্রধান নির্ভর করে উন্নতার মাত্রা এবং স্থলভাগ ও জলভাগের বণ্টন প্রকৃতির ওপর। এ ছাড়া সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ এগুলির বণ্টনকে নিয়ন্ত্রণ করে। স্থলভাগ সাধারণত অসমসত্ত্ব উপাদান দ্বারা গঠিত হওয়ায় স্থানভেদে ভূভাগের উত্তাপ গ্রহণ ও পুনর্বিকিরণ ক্ষমতার তারতম্য ঘটে। অন্যদিকে জলভাগ সমপ্রকৃতির উপাদানে গঠিত হওয়ায় এই তারতম্যের হার অনেকটাই কম। এই কারণে সমপ্রেষরেখাগুলি অক্ষরেখা বরাবর বিন্যস্ত না-হয়ে খুবই অনিয়মিতভাবে অর্থাৎ এঁকে বেঁকে বিন্যস্ত হয় এবং জলভাগ থেকে স্থলভাগে প্রবেশ করা মাত্রই বিন্যাস প্রকৃতির পরিবর্তন ঘটে। আবার স্থলভাগ থেকে পুনরায় জলভাগে প্রবেশ করা মাত্রই বণ্টন অভিমুখ পরিবর্তন করে।