নক্ষত্র চিত্র (Star diagram) :
সংজ্ঞা (Definition) :
একটি কেন্দ্রবিন্দু থেকে নিয়মিত অথবা অনিয়মিত কৌণিক ব্যবধানে অর্থাৎ কৌণিক দূরত্বে চতুর্দিকে প্রসারিত এবং উপাদানের পরিমাণের সমানুপাতিক ভিন্ন ভিন্ন দৈর্ঘ্যের সরলরেখা দ্বারা অঙ্কিত চিত্রকে তারকা চিত্র বা নক্ষত্র চিত্র বলে।
নামকরণ :
এই চিত্রে রাশিতথ্যসমূহকে একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রবিন্দু থেকে নির্দিষ্ট স্কেল-এ ও নির্দিষ্ট কৌণিক ব্যবধানে চারিদিকে প্রসারিত সরলরেখার সাহায্যে উপস্থাপন করা হয়। এই চিত্রে প্রতিটি সরলরেখার ক্ষেত্রে কেন্দ্র বিন্দুকে শূন্য ধরে উপাদানের পরিমাণের অনুপাতে নির্দিষ্ট স্কেল-এ রেখাগুলির দৈর্ঘ্য মেপে নেওয়া হয়। ফলে পরিমিত অথচ অসমান দৈর্ঘ্য যুক্ত সরলরেখাগুলিকে বিচ্ছুরিত আলোক রশ্মির মতো দেখতে লাগে এবং সমগ্র চিত্রটিকে একঝলকে আকাশের তারার মতো দেখায়। তাই এটি তারকা বা নক্ষত্র চিত্র (Star Diagram) নামে পরিচিত। এই চিত্রটিকে নক্ষত্র চিত্র বা Star diagram না-বলে বহু অক্ষ লেখচিত্র (multi-axial graph) বা নক্ষত্র লেখচিত্র বলাই শ্রেয়।
* বৈশিষ্ট্য (Characteristic) :
(i) নক্ষত্র চিত্র একটি একমাত্রিক চিত্র যাতে একটি কেন্দ্রবিন্দু থেকে চারদিকে কেবলমাত্র দৈর্ঘ্য বরাবর ভৌগোলিক উপাদানের বণ্টন দেখানো হয়।
(ii) নির্দিষ্ট কেন্দ্রবিন্দু থেকে নিয়মিত অথবা অনিয়মিত ব্যবধানে অঙ্কিত সরলরেখার মাধ্যমে নক্ষত্র চিত্র প্রকাশ করা হয়।
(iii) নক্ষত্র চিত্রে প্রসারিত সরলরেখাগুলি উপাদানের পরিমাণের সঙ্গে সমানুপাতিক হয়।
(iv) এই চিত্র অনেক ক্ষেত্রে কোনো উপাদানের দিক বা অভিমুখ নির্দেশ করে, যেমন বায়ুপ্রবাহের দিক সংক্রান্ত windr Rose diagram |
ব্যবহার ও উপযোগিতা (Uses/Utilities) :
(i) মূলত আবহাওয়া ও জলবায়ু সংক্রান্ত মানচিত্রে নক্ষত্র চিত্রের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয়। উইন্ডরোজ দ্বারা শাস্ত বায়ু, বায়ুপ্রবাহের দিক ও দিনের সংখ্যা উপস্থাপন করা হয়। এটি থেকে স্থানটির ঋতুগত অবস্থা ও জলবায়ুর প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। 12 মাসের উয়তা, বৃষ্টিপাত, বর্ষণ দিনের সংখ্যা, আর্দ্রতা প্রদর্শন করা হয় ঘড়ি চিত্রে।
(ii) রাজধানী, মহানগর, নগর, শিল্পকেন্দ্র, বাণিজ্যকেন্দ্র, বন্দর, পর্যটনকেন্দ্র প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বা উল্লেখযোগ্য স্থানকে ভিত্তি করে তার চারপাশের স্থানগুলির অবস্থান ও গুরুত্ব প্রদর্শনে নক্ষত্রচিত্র ব্যবহৃত হয়। (ii) এই চিত্র পাইলট চার্ট মানচিত্র প্রণয়নে ব্যবহৃত হয়। নাবিকেরা এই চিত্র প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার করে আসছে।
অঙ্কন পদ্ধতি (Method of Construction) :
নিম্নলিখিত ধাপগুলি পর পর অনুসরণ করলে নক্ষত্র চিত্র আঁকা সহজ হয়।
(i) কাগজের মধ্যে একটি বিন্দু নির্দিষ্ট করা হয়। এই বিন্দু থেকে ওপরের দিকে একটি সরলরেখা টানা হয়।
(ii) এই সরলরেখাকে উল্লেখকারী বা নির্দেশকারী রেখা (reference line) ধরে চাঁদার সাহায্যে নির্দিষ্ট কৌণিক ব্যবধানে প্রয়োজনমতো সরলরেখা টানা হয়। আট দিক বোঝাতে 45° অন্তর কিংবা বারো মাস বোঝাতে 30° অন্তর রেখা টানা হয়।
(iii) কোন রেখা কোন মাস বা কোন্ দিক নির্দেশ করে তা লেখা হয়।
(iv) উপাদানের পরিমাণ বা দিনের সংখ্যা বোঝাতে স্কেল অনুযায়ী মাস বা দিক নির্ণয়কারী স্ব স্ব রেখার দৈর্ঘ্য কেন্দ্র থেকে মেপে ও কেটে নিয়ে রেখার অতিরিক্ত অংশ মুছে ফেলা হয়।
(v) চিত্রে কোন্ বিষয় দেখানো হচ্ছে তার ব্যবহার বা উপযোগিতার ওপর নির্ভর করে মেপে নেওয়া প্রতিটি রেখার প্রান্তবিন্দুকে যোগ করা হয়।
চিত্রের অঙ্কন :
(i) একটি কাগজের মাঝ বরাবর একটি বিন্দু নির্দিষ্ট করে নির্দিষ্ট মাপের একটি উল্লম্ব সরলরেখা আঁকা হল ।
(ii) রেখাটিকে একটি উল্লেখকারী রেখা (reference line) ধরে 12 মাসের বৃষ্টিপাতের বণ্টন দেখাতে এর কেন্দ্র থেকে 30° (360° + 12) কৌণিক ব্যবধানে উল্লেখকারী রেখা ছাড়াও একই দৈর্ঘ্যের 11টি রেখা টানা হল। রেখাগুলি এক-একটি মাস নির্দেশ করে।
(iii) উত্তর দিকের রেখাটিকে জানুয়ারি মাস নির্দেশকারী রেখা ধরে ঘড়ির কাঁটা অনুযায়ী পর পর মাসগুলির নাম লেখা হল।
(iv) প্রতিটি মাসের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্কেল অনুসারে অক্ষের দৈর্ঘ্য নির্ণয় করে নির্দিষ্ট মাস নির্দেশকারী অক্ষ বরাবর চিত্রের কেন্দ্র থেকে একটি করে স্তম্ভ আঁকা হল। এভাবে চিত্রটি আঁকার পর এর শিরোনাম ও স্কেল উল্লেখ করা হল।